কবুতরের বাসস্থান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা (পাঠ-১৭)

কৃষিজ উৎপাদন - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

575

কবুতরের বাসস্থান: কবুতর একক বাসা বা খোপের মধ্যে বসবাস করতে পছন্দ করে। কবুতরের বাসা মাটি থেকে উঁচুতে স্থাপন করতে হয়। বন্য পশু-পাখি যাতে এদের ক্ষতি করতে না পারে, সে দিকে লক্ষ রেখে বাসা তৈরি করতে হয়। কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের বাসা বা খোপ তৈরি করা হয়। কবুতর থেকে বেশি বাচ্চা পেতে হলে এক জোড়ার জন্য পাশাপাশি ২টি বাসা তৈরি করতে হবে। কারণ বাচ্চা পালনের সময় আবার ডিম পাড়ার সময় হলে সে বাচ্চার পাশের বাসায় নতুন করে ডিম দেয় এবং তা দিতে শুরু করে। কবুতরের ঘর দুই বা ততোধিক তলা বিশিষ্টও হতে পারে। বহুতল বাসা তৈরিতে খরচ কম হয়।

স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়ই পালাক্রমে বাচ্চাকে খাওয়ায়। এরা বাচ্চার মুখের ভিতর ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে আদরের সাথে নিজ খাদ্যথলির রসমিশ্রিত নরম খাদ্য বাচ্চার মুখের ভিতর দেয়। এ রসমিশ্রিত নরম খাদ্য অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় তা খেয়ে বাচ্চা দ্রুত বেড়ে উঠে। ২৮ দিন পর এদের পাখার পালক গজায় এবং এরা ঠোঁট দিয়ে তুলে খেতে পারে।

বয়ষ্ক কবুতরের খাদ্য: কবুতর ধান, গম, ভুট্টা, মটর, খেসারি, সরিষা, কলাই ইত্যাদি শস্যদানা খেতে পছন্দ করে। মুরগির জন্য তৈরি সুষম খাবারও কবুতরকে খাওয়ানো যায়। প্রতিটি কবুতর গড়ে দৈনিক ৫০ গ্রাম খাবার খেয়ে থাকে। কবুতরকে ঝিনুকের খোসাচূর্ণ, চুনাপাথর, কাঠকয়লা চূর্ণ, লবণ ইত্যাদি একত্রে মিশিয়ে খেতে দিতে হয়। এতে তাদের খনিজ লবণের অভাব পূরণ হয়। কবুতরের খাদ্য ও পানি পাত্রে সরবরাহ করতে হয়। মুক্ত ও অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে কবুতর নিজেই খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে যায়। এরা বিভিন্ন ফসলের মাঠ হতে খাদ্য খেয়ে থাকে। ঘরে কবুতরকে তৈরি খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

পানি সরবরাহ: কবুতরের পানি পান ও গোসল করার জন্য ঘরের মাঝখানে ২-৩টি গামলার ব্যবস্থা করতে হবে। গামলার ৩-৪ ভাগ পানি দিয়ে ভরে রাখতে হবে। এখান থেকেই এরা পানি পান ও গোসল করবে।

কবুতরের খাদ্য তালিকা-

কবুতরের খাদ্য উপাদানশতকরা হার (%)
গম৩০.০
ভুট্টা২০.০
সরিষা দানা১৫.০
খেসারি২০.০
কলাই১৪.৫
লবণ০.৫
মোট১০০
কাজ: কবুতরের বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের নাম লেখ এবং একটি খাদ্য তালিকা তৈরি কর।

নতুন শব্দ: খাদ্যথলি, শস্যদানা, চুনাপাথর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...